চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন চলতি বছর প্রথমবারের মত গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সাতকানিয়ার সহযোগিতায় এ বছর তিনি খোদ্দ কেওচিয়া গ্রামে নিজের ৪২ শতক জমিতে প্রথমবারের মত গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি জাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন গোল্ড ক্রাউন। প্রথমবারের মত তরমুজ আবাদে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে জনাব আবুল হাসানকে তরমুজ চাষে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করেছে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিস। এ উদ্দেশ্যে তাকে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ফসল উৎপাদন বিষয়ক একটি প্রদর্শনীও প্রদান করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই উৎপাদিত তরমুজ মাঠ থেকে সংগ্রহের আগেই স্থানীয় বাজারে অগ্রীম বিক্রি হয়ে গেছে। উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে জনাব আবুল হোসেন প্রায় তিনগুন মুনাফা করেছেন। ভবিষ্যৎএ তিনি নিজ উদ্যোগে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি থেকে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও লাভজনক ফসল উৎপাদনের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পলিমালচিং, সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, ইয়োল ট্রাপ কৃষক পর্যায়ে সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যে ফসল চাষের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে যাতে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। নতুন কৃষি প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করার জন্য নিয়মিত প্রদর্শণী ও মাঠদিবসের আয়োজন করা হচ্ছে। আশা করা যায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদের প্রযুক্তিটি কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারিত ও সমাদৃত হবে।